ঘর নেই, শীতের রাতে তিন মে’য়েকে নিয়ে কুয়াশায় ভিজে থাকেন ফাতেমা

নিউজ ডেস্কঃ- ‘মোর আড়াই শতক ভুই (জমি)। ভালো একনা ঘর নাই। একনা ভা’ঙা টিনের চালা। ওকনা চালায় তিন কোনা বেটি (মে’য়ে) নিয়া থাকোং (থাকি)’ বলেন ফাতেমা। ‘আইতে (রাতে) ঘুমির পাং না, বৃষ্টির দিনোত চালা দিয়ে পানি পড়ে। শীতের দিনোত বাতাস ঢোকে ঘরের ভেতরোত। স্বামী ম’রছে দেড় বছর হয় বিধবা ভাতার কার্ডও পাং নাই। মুই তো মো’র ক’ষ্টের কতা (কথা) চেয়ারম্যান-মেম্বারের কতবার কছুং ৷ কাও মোর ভাতা করে দেয় নাই৷ সরকার থেকে যদি একনা ঘর পানুং হয় তাইলে বাকি জীবনটা ভালো করে কাটনুং (কাটিল) হয়’।

news picture 2021

এভাবেই নিজের ক’ষ্টের কথাগুলো বলছিলেন লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের ৪নং দলগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিণ দলগ্রাম (হাজীপাড়া) এলাকার ৬নং ওয়ার্ডের মৃ’ত্যু সামছুল হকের স্ত্রী’ ফাতেমা বেগম (৩৭)। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দশ বছর ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। দেড় বছর ধরে স্বামীহা’রা হলেও এখন পর্যন্ত ভাগ্যে জোটেনি বিধ’বাভাতা, ভিজিডি কার্ড কিংবা মা’থা গোঁ’জার মতো একটা সরকারি ঘর। তবে সরকারি কাজের বিনিময় খাদ্য কর্মসূচিতে নাম রয়েছে তার।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি টিন দিয়ে তৈরি একটি টিনের ঘরে বৃষ্টি ও কনকনে ঠান্ডায় তিন কন্যাসন্তানকে নিয়ে কোনোমতে ক’ষ্টে বসবাস করছেন ফাতেমা। অভাবের তাড়নায় এক মে’য়েকে অন্য বাড়িতে রেখে ঝিয়ের কাজ করতে হচ্ছে। আর দুই মে’য়ে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চ’ম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। সারাদিন পরিশ্রম করে রাতে একটু ভালো’ভাবে ঘুমাতেও পারেন না তারা। ঘন কুয়াশায় ভিজে যায় বিছানাপত্র।

তবুও বেঁ’চে থাকার তাগিদে জ’রাজী’র্ণ ভা’ঙা টিনের চালায় রাতভর ছটফট করে তিন সন্তানকে নিয়ে থাকতে হয় ফাতেমাকে। মুজিববর্ষে সরকারি একটি ঘর পাওয়ার আ’কু’তি জানান ফাতেমা বেগম। এ বিষয়ে দলগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান রবিদ্রনাথ বর্মণ জানান, মাত্র দুই মাস হলো দায়িত্ব নিয়েছি। তবে এ অস’হায় বিধবা সরকারি ঘর পাওয়ার যোগ্য বলেই মনে করি।

Check Also

news photo

টাকার কাছে নিজের ব’উ কে বিক্রি করে দিলেন স্বামী

টাকার লোভে নিজের বিয়ে করা বউকে বিক্রি করে দেওয়ার ঘ’টনা ঘটেছে ভারতের নদিয়ার শান্তিপুরের নতুনহাটে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page