মাত্র ১০ হাজার টাকায় ১৫ টি লাভজনক বিজনেস আইডিয়া যা আপনি শুরু করতে পারেন

মাত্র ১০ হাজার টাকা বা তার কম পুঁজিতে লাভজনক ব্যবসা শুরু করা সত্যিই সম্ভব। তার জন্য প্রয়োজন দক্ষ’তা, উদ্ভাবনী, সৃজনশ’ক্তি আর অধ্যাবসায়। ১০ হাজার টাকায় ব্যবসা শুরু ক’রতে হলে প্রথমেই চি’হ্নিত ক’রতে হবে আপনার আগ্রহ ও দক্ষ’তার ক্ষেত্র। যেহেতু এই সব ব্যবসায় বিনিয়োগ কম তাই বাস্তবে আপনি বিক্রি করবেন আপনার দক্ষ’তা আর শ্রম।

আর তাই ব্যবসার ক্ষেত্রটিতে আপনার যথেষ্ট দক্ষ’তা না থাকলে লাভজনক ব্যবসা করা সম্ভব হবে না। পাশাপাশিই বিষয়টি স’ম্পর্কে আপনার আগ্রহ থাকা জ’রুরি। জে’নে নিন এমন ২৬ টি বিজনেস আইডিয়া যা আপনি শুরু ক’রতে পারবেন ১০ হাজার বা তার থেকেও কম পুঁজিতে।

১. অনলাইন শিক্ষকতা : অনলাইনে আপনার পছন্দের বিষয়টি শিখিয়ে ঘরে বসেই ভাল রকমের আয় করা সম্ভব। বিষয়টি হতে পারে পড়াশোনা, বাদ্যযন্ত্র বা ভাষা শিক্ষা। আপনার দক্ষ’তা ও আগ্রহের ভিত্তিতে নির্ধারণ করুন বিষয়। নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল খু’লে বিনা বিনিয়োগেই আয় ক’রতে পারবেন।

এছাড়াও রয়েছে অনলাইন শিক্ষকতার বিভিন্ন পোর্টাল, যেখানে নাম নথিভুক্ত করে সহজেই শুরু ক’রতে পারবেন শিক্ষকতা। সেক্ষেত্রে নিতে হবে না ভিয়্যু বাড়ানোর দায়িত্ব। রয়েছে ইউডেমি-এর মতো অনলাইন টিচিং ও লার্নিংমা’র্কেট প্লেসও। এই ধ’রণের প্ল্যাটফর্মে কোর্স আপলোড করেও শুরু ক’রতে পারেন আপনার ব্যবসা।

অঙ্ক, বিজ্ঞান, ভাষা শিক্ষার পাশাপাশিই আঁকা, প্রো’গ্রামিং, বাদ্যযন্ত্র বাজানো, মা’র্কেটিং, ফটোগ্রাফি, ব্যবসা ইত্যাদি নানা বিষয়ে কোর্স আপলোড করার সুযোগ রয়েছে এই ধ’রণের প্ল্যাটফর্মে। টেক্সট, ভিডিও, অডিও বা প্রেজেন্টেশনের আ’কারে আপলোড ক’রতে পারেন কোর্স।

২. খাবারের হোমডেলিভারি: আজকের ক’র্মব্যস্ততার যুগে বাড়িতে রোজ রান্না করার সুযোগ হয় না অনেকেরই, আবার প্রতিদিন হোটেলের খাবারও খেতে চান না বেশিরভাগ। এই চা’হিদা মে’টাতেই শুরু হয়েছিল খাবারের হোম ডেলিভারির ব্যবসা। নিজে’র বাড়িতে রান্না করে পৌঁছে দিন বাড়ি বাড়ি, সময়ে মতো সুস্বাদু খাবার দিতে পারলে ব্যবসার অভাব হবে না।

কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় সংল’গ্ন অঞ্চলে ব্যবসার সুযোগ বেশি। শহরের বাইরে থেকে পড়তে আসা ছাত্রছাত্রীরা অনেকেই রোজকার রান্না ক’রতে চান না, সেক্ষেত্রে তাঁরা নির্ভর করেন হোম ডেলিভারির ওপর। এছাড়া অনেক ছোট পরিবারও রোজকার খাবারের জন্য হোমডেলিভারির খাবারের ওপরই নির্ভর করেন। ১০হাজার টাকায় শুরু করুন এই ব্যবসা।

৩. অনলাইন বেকারি: রকমা’রি কেক, কুকিস্ বানাতে ভালবাসেন? আত্মীয়-ব’ন্ধুদের জ’ন্মদিন-অ্যানিভারসারিতে আপনার বানানো কেকের কদর রয়েছে? তাহলে এই ছোট ব্যবসা আপনার জন্য। ওভেন-ফ্রেশ বেকারি আইটেমের চা’হিদা প্রচুর, আর তা যদি আপনি একেবারে ক্রেতার ঘরে পৌঁছে দিতে পারেন তাহলে তো কথাই নেই। নিত্যনতুন রেসিপি চেষ্টা করুন, তৈরি করুন আপনার স্পেসালিটি। ১০ হাজার টাকায় শুরু করুন আপনার ব্যবসা। ঘরের ওভেনেই কেক-কুকিস্ বানিয়ে অনলাইনে বিক্রি করুন।

৪. ট্যুর গাইড: বাঙালি বেড়াতে যেতে ভালবাসে। আর তার জন্য তারা অনেক সময়েই নির্ভর করে ট্যুর গাইডের ওপর। ফ্লাইট, ট্রেনের টিকিট বুকিং, হোটেল বুকিং থেকে শুরু করে স’ম্পূর্ণ ট্যুরটি প্ল্যান করা পুরোটার দায়িত্ব আপনার। অফিস, স্কুল বা কলেজে’র ট্যুর করাতে পারলে নিয়মিত ব্যবসা পাওয়া সম্ভব। এটি কম খরচে লাভের ব্যবসা। আপনাকে শুধু একটি ওয়েবসাইট তৈরি ক’রতে হবে, আর যোগাযোগ তৈরি ক’রতে হবে বিভিন্ন জায়গার হোটেলের স’ঙ্গে, জে’নে নিতে হবে তাদের ট্র্যাভেল এজেন্ট ক’মিশ’নের রেট। খুঁজে বের করুন নতুন নতুন জায়গা। বর্তমানে সব থেকে লাভজনক ব্যবসার একটি ট্যুর অপারেটিংয়ের ব্যবসা।

৫. কাস্টমাইজড গয়না তৈরি: নতুন ধ’রণের গয়না তৈরি করুন, অভিনবত্ব আনুন গয়নার ডিজাইন, স্টাইল আর উপকরণে। অনলাইনে ব্যবসা করুন। ১০ হাজার টাকায় এই ব্যবসা শুরু ক’রতে পারবেন। এই ধ’রণের গয়না তৈরির উপকরণ সহজেই পাওয়া যায় কলকাতার বিভিন্ন বাজারে। পছন্দ মতো উপকরণ সংগ্রহ করে বাড়িতে বসে সহজেই বানিয়ে ফেলুন গয়না।

৬. ফলের রসের কিয়স্ক: প্রথমেই বেছে নিতে হবে জায়গা। এমন জায়গায় কিয়স্ক ক’রতে হবে যাতে সহজেই চোখে পড়ে। আসে পাশে অফিস, স্কুল, কলেজ থাকলে বিক্রি হওয়ার সুযোগ বেশি। ওই জায়গায় কিয়স্ক বসানোর অনুমতি পত্র যোগাড় ক’রতে হবে, ভাড়া নিতে হবে জায়গা। এর পর দরকার কাঁচামাল আর ফলের রস তৈরির যন্ত্র। গোটাটাই ১০ হাজার টাকার কমে করে ফেলা সম্ভব।

৭. ট্রাভেল এজেন্সি: অল্প পুঁজিতে ব্যবসা শুরু ক’রতে হলে ফ্লাইট, রেল আর বাসের টিকিট বুকিংয়ের ব্যবসার কথা ভাবতে পারেন। ১০ হাজার টাকায় ব্যবসা শুরু ক’রতে পারবেন। প্রয়োজন কম্প্যুটার, ইন্টারনেট আর এজেন্ট হওয়ার জন্য অনুমতি। বাড়িতে বসে স্বল্প মূলধনে ব্যবসা ক’রতে চাইলে সব থেকে সহজ উপায় হল হোস্ট এজেন্সির স’ঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়া। প্রাথমিক বিনিয়োগের পরিমাণ নির্ভর করে হোস্ট এজেন্সির উপর কিন্তু তা ১০ হাজার টাকার মধ্যে রাখা সম্ভব।

৮. অনলাইনে হস্তশিল্প সামগ্রী বিক্রি: ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে রয়েছে হস্তশিল্পের বিপুল সম্ভার। ১০ হাজার টাকায় ব্যবসা শুরু ক’রতে ছোট ছোট ঘর সাজানোর সামগ্রী সংগ্রহ করুন, অথবা ছোট গয়না। গ্রামীণ শিল্পীরা অনেক কম দামেই বিক্রি করেন তাঁদের তৈরি সামগ্রী। তাই অত্যন্ত কম খরচে লাভের ব্যবসা করা সম্ভব।

৯. দর্জির দোকান: ১০ হাজার টাকায় ব্যবসা শুরু ক’রতে হলে ভাবতে পারেন দর্জির দোকানের কথা। তবে এক্ষেত্রে আপনার অবশ্যই থাকতে হবে উপযুক্ত দক্ষ’তা ও সৃজনশীলতা। নিজে’র বাড়ি থেকেও এই ব্যবসা ক’রতে পারেন। ক্রেতার বাড়ি গিয়ে ডিজাইন আর মাপ নিয়ে এসে বাড়িতে বসে বানিয়ে পৌঁছে দিয়ে আসুন ক্রেতার বাড়িতে। অনলাইনে বহু নতুন নতুন অভিনব ডিজাইন পাওয়া যায়, সেখান থেকে নিজে’র পছন্দ মতো ক্যাটালগ তৈরি করে নিন।

১০. বিউটিশিয়ান: উপযুক্ত দক্ষ’তা ও প্রশিক্ষণ থাকলে অল্প পুঁজিতে এই ব্যবসা করা সম্ভব। প্রথমেই কিনে ফেলুন প্রাথমিক পরিষেবা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ। বাড়িতে গিয়ে ফেসিয়াল, পেডিকিওর, ম্যানিকিওর, অয়েল ম্যাসাজ বা ওয়্যাক্সিংয়ের মতো পরিষেবা দিন ক্রেতাকে। অনেকে বিউটি পার্লারে না গিয়ে বাড়িতেই এই সমস্ত পরিষেবা পেতে পছন্দ করেন। পরিষেবার মান ভাল হলে লোক মুখেই প্র’চার হবে। তৈরি ক’রতে পারেন আপনার ওয়েবসাইটও। ১০ হাজার টাকায় ব্যবসা শুরু ক’রতে পারবেন।

১১. মেকআপ আর্টিস্ট: আপনি যদি সাজাতে ভালবাসেন, যদি থাকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, তাহলে খুব সহজেই অল্প পুঁজিতে লাভজনক ব্যবসা করা সম্ভব। কনে সাজানো থেকে পার্টি মেকআপ অথবা নাচ বা অন্যান্য অনুষ্ঠান, ডাক পেতে পারেন বিভিন্ন জায়গা থেকে। এক্ষেত্রেও একটি ওয়েবসাইট থাকলে ক্রেতার কাছে পৌঁছনো সহজ হবে।

১২. ফ্রিল্যান্স কন্টেন্ট রাইটিং: ইংরেজিভাষায় যথেষ্ট দক্ষ’তা থাকলে কন্টেন্ট রাইটিংয়ের কাজ পাওয়া সহজ। ঘরে বসে অনলাইনে ব্যবসা করে আয়ও হবে ভালই। বিভিন্ন ফ্রিল্যান্স সাইটের মাধ্যমে এই কাজ পাওয়া যেতে পারে। ইদানিং আঞ্চলিক ভাষায়ও কাজে’র সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এই লেখার নিজস্ব কিছু কৌশল রয়েছে, যেমন সার্চ ইঞ্জিনে যাতে আপনার লেখা ওপরের দিকে স্থান পায় তার জন্য জানতে হয় সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের কৌশল। তবে চর্চা করলে রপ্ত করে নেওয়া ক’ঠিন হবেনা। ভাষার ও শব্দভাণ্ডারের ওপর দখল থাকাই এই ব্যবসায় সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। বিনা বিনিয়োগে ঘরে বসে আয় ক’রতে পারবেন এই ব্যবসায়।

১৩. ইউটিউব চ্যানেল: অনলাইনে আয় করার আরও একটি সহজ উপায় ইউটিউব চ্যানেল। শিক্ষামূলক থেকে রান্না শেখানো, লাইফ হ্যাকস্ থেকে বেড়ানো, বিষয় হতে পারে যে কোনও। চ্যানেলের ফলোয়ার বাড়াতে নিয়মিত ভিডিও আপলোড ক’রতে হবে। স্মা’র্টফোনে ভিডিও তুলেও আপলোড ক’রতে পারেন চ্যানেলে। তবে শব্দ ও ছবির গুণমান ভাল হওয়া জ’রুরি। ভিডিওর যথেষ্ট ভিয়্যু হলে বিজ্ঞাপন বাবদ টাকা পাবেন।

১৪. অনুবাদের ব্যবসা: দুটি বা তার বেশি ভাষা জা’না থাকলে অনুবাদের ব্যবসা শুরু ক’রতে পারেন। পৃথিবীজুড়ে প্রতিদিন বিভিন্ন ধ’রণের অনুবাদের প্রয়োজন পড়ে, তা হতে পারে আই’নি কাগজ বা মেডিক্যাল নথি, অথবা মোবাইল অ্যাপ বা গেমিং। এছাড়াও পাওয়া যায় সিনেমা বা টিভি সিরিজে’র সাবটাইটেল অনুবাদ করার কাজ। প্রতিটির জন্য নির্দিষ্ট কিছু দক্ষ’তা থাকা প্রয়োজন, প্রয়োজন সেই বিষয়ের শব্দ স’ম্পর্কে সম্যক জ্ঞান। ঘরে বসে ইন্টারনেটে ব্যবসা করে আয় হবে ভালই। অনুবাদ এজেন্সির স’ঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলে নিয়মিত কাজ পাওয়া যাবে।

১৫. গ্রাফিক ডিজাইনিং: বলা হয় পূর্ণ সময়ের চাকরির চেয়ে নিজে’র ব্যবসায় আয় বেশি করেন গ্রাফিক ডিজাইনাররা। কম্প্যুটার আর প্রয়োজনীয় সফ্টওয়্যার থাকলে ১০,০০০ টাকায় ব্যবসা শুরু ক’রতে পারবেন। বস্তুতঃ আলা’দা কোনও অফিসেরও প্রয়োজন নেই, ব্যবসা ক’রতে পারেন ঘরে বসেই। অর্ডার পেতে পারেন অনলাইনে অথবা চুক্তিবদ্ধ হতে পারেন বিভিন্ন কোম্পানির স’ঙ্গে যাদের নিয়মিত গ্রাফিক ডিজাইনিংয়ের কাজে’র প্রয়োজন। আজকের ডিজিটাল যুগে গ্রাফিক ডিজানিংয়ের কাজে’র সুযোগ প্রচুর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You cannot copy content of this page